মালদা, ১২ জুন: মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর বন্যা ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে আবারও চাঞ্চল্য কর অভিযোগ তুলল কংগ্রেস ও সিপিএম নেতৃত্ব। তাদের দাবি হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের বন্যা ত্রাণের টাকা এলাকার শাসকদলের নেতা সহ ওই ব্লকের বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মচারীর একাউন্টে ঢুকানো হয়েছে। বন্যার ত্রাণ কেলেঙ্কারি দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এলাকার সিপিআইএম এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব। আসন্ন সপ্তাহে এই মামলা হাইকোর্টে উঠতে চলেছে। এই মামলাতে বিডিওর বিরুদ্ধেও একই সঙ্গে অভিযোগ দায়ের করেছে কংগ্রেস এবং সিপিএম নেতৃত্বের। পাশাপাশি বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের গ্রুপ সি পদে কর্মচারী ভোলানাথ চৌধুরীর একাউন্টেই শুধু ৬৯ লক্ষ টাকা ঢোকানো হয়েছে। এমনকি বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন ওই কর্মচারি হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা হয়ে কি করে ২ নম্বর ব্লকের ক্ষতিগ্রস্ত দের টাকা তার একাউন্টে ঢুকে। শুধু তাই নয় ওই কর্মচারী চাকরি পাওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই আশ্চর্য জনক ভাবে তার গ্রামে বিশাল বিলাসবহুল প্রাসাদ তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ। সিপিএম এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব অভিযোগও করেছেন যে ত্রাণ কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে আসার পরই এই কর্মচারী তার অ্যাকাউন্টে ঢোকা টাকার কিছু অংশ ইতিমধ্যেই ট্রেজারিতে জমা করেছেন। বিরোধী দলগুলির এই অভিযোগ সামনে আশায় মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বলে খবর।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতি-গ্রস্ত হয়েছিল লক্ষ লক্ষ মানুষ। সেই ক্ষতি-গ্রস্ত মানুষদের জন্য রাজ্য-সরকার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং এবং ২ নং ব্লকে কয়েক দফায় ৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। এর মধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকা হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকে বরাদ্দ করা হয়েছিল। এরপরই ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষতি-পূরণের টাকা বিলি করার সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় প্রশাসন। পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত গুলিতে যুক্ত করে ক্ষতি-গ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হয়। তারপরই অভিযোগ ওঠে এই তালিকায় ব্যাপক পরিমাণ দুর্নীতি করা হয়েছে। এদিকে, প্রকৃত ক্ষতি-গ্রস্তদের টাকা না দিয়ে বন্যা ত্রাণের টাকা শাসকদলের মদতপুষ্ট বেশ কয়েকজন ব্যক্তি, তৃণমূল নেতা এমনকি ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরে বিভিন্ন সরকারি আধিকারিক, জেলা পরিষদ সদস্যদের একাউন্টে ঢুকানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই এই নিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি এবং বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের জন-প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় হাইকোর্টে। এই মামলার জেরে হাইকোর্টের নির্দেশে বেশ কয়েকজন জন-প্রতিনিধির জেল পর্যন্ত হয়। এরপরই হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের বন্যা ত্রাণের ক্ষতি-পূরণের টাকা নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন এলাকার কংগ্রেস নেতৃত্ব এবং বামেরা। তাদের অভিযোগ হরিশ্চন্দ্রপুর এক নম্বরের মতই হরিশ্চন্দ্রপুর দু’নম্বর ব্লক এলাকাতেও ব্যাপক পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে। এই নিয়ে তথ্য জানার অধিকার আইন সিপিএম এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব যুগ্মভাবে এ বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য ব্লক আধিকারিকের নিকট দরখাস্ত প্রদান করেন। কিন্তু এই আবেদন ফলপ্রসূ না হয়ে তারা অবস্থান-বিক্ষোভ এ বসেন ব্লক চত্বরে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের বিডিও তাদের ক্ষতি-গ্রস্তদের তালিকা প্রদান করলেও সেই তালিকায় ক্ষতি-গ্রস্তদের অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং ব্যাংকের যাবতীয় তথ্য ঢেকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, ২০১৭ সালের বন্যার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা অসম্পূর্ণ প্রদান করা হয় বিডিও এর বিরুদ্ধেও হাইকোর্টে অভিযোগ দায়ের করেছে কংগ্রেস এবং সিপিএম নেতৃত্ব। তাদের দাবি বিডিও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে বন্যা ত্রাণের ক্ষতিগ্রস্ত তালিকা দিতে চাইছেন না। তাই তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। যদিও, এই বিষয়ে ওই অভিযুক্ত হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের কর্মচারী ভোলানাথ চৌধুরী সংবাদমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে চাননি এবং হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লক বিডিও বিজয় গিরি জানান, সেই কর্মচারীর একাউন্টে কি ঢুকেছে তা আমার জানা নেই। আর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
